Thursday, 7 April 2011

ইতি তোমার


দুটো শালিখ পাখি  ঝগড়া  করছিল  দুপুর  বেলায় আর  কবিতাটা  মনে  পরে  গেল
“তিনটি  শালিখ ঝগড়া  করে  রান্না ঘরের  চালে ”
হারমুনিউমটায়  ধুলো  পরে  গেছে বহুদিনের ………গীতবিতান খোলাই হয় না ……কিন্তু তুমি  আছ  ,আমার সাথেই আছ, আমার পাশে ………একটা দমকা হাওয়ায় ,একটা বৃষ্টি ভেজা বিকেলে ,একটু চাঁদের আলোয়…..আর অনেকখানি আবেগ নিয়ে,অনেকটা হৃদয় জুড়ে ……দিনগুলো অনেক বদলে গেছে জানো ………আগে শুধু আমি ছিলাম, তুমি চিলে, গান ছিল, লেখা ছিল…….ছিল চারুলতা , ছিল সোহিনী, ছিল মৃনালিনী , ছিল বিনোদিনী,ছিল nostalgia ……….আর, দাদা ছিল ………..এখন  দাদা নেই ,ওরাও আর মনের দরজায় টোকা দেয় না, শুধু  আমি আছি আর  আছে দীর্ঘ্য্বাস ………..আর তুমি ? তুমি  ছিল , আছ  আর  থাকবে………..
কাল গান গাইলাম বহুদিন  পরে ………রাতের বেলায়, আশাবরী রাগ ধরলাম আর বহু বহু দিন পর ফিরে পেলাম ....... কাকে ??...... নিজেকে......
জানো রবি ঠাকুর আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম কি একটা খুজতে গিয়ে………না পারা গুলো কে পারব করতে গিয়ে …….না গুলো কে হাঁ করতে গিয়ে …….বিনোদিনীর বিহারী খুজতে গিয়ে …….দৌড়তে গিয়ে , বড় হতে গিয়ে,শিখতে গিয়ে, উপরে উঠতে গিয়ে………আমি হাপিয়ে গেলাম, হেরে  গেলাম আর তারপর যে গুলো তুমি শিখিয়েছিলে সেগুলো ভুলে গেলাম……..ভুলে গেলাম গান করতে …….ভুলে গেলাম উড়ে যেতে……ভুলে গেলাম  “তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে” গা ভাসতে……..
এখন আর  পঁচিশে  বৈশাখে আমরা সবাই নাচ করি না আমরা তোমার সুরে……..বড্ড ব্যস্ত কিনা …….শুধু তোমার ছবিটার সামনে এখনো দাড়াই  মাঝে মাঝে আর ওই গানটা খুজি “যেদিন পরবে না মোর পায়ের চিন্হ ” আর তখন খুঁজে পাই তোমাকে, দাদাকে……..মনের শান্ত অচিন কোনে…….
কলকাতাটাও পাল্টে গেল পাঁচ বছরে অনেকটা………তবে একা রাস্তায় হাঠলে এখনো ভালো লাগে……..তার কথা মনে পরে, তার হাথ ধরতে ইচ্চ্ছে করে……..চিঠিটা এখনো রেখে দিয়েছি রবি ঠাকুর……….এখন পরলে হাসি  পায়…..কতবার তোমায় জিজ্ঞেস করলাম দেওয়ার আগে ঠিক করছি তো…….আর তুমি হেসে গাইলে “প্রাণ চায় চক্খু  না চায়”…….বহু দিন হযে গেছে……..বাক্স বন্দী স্মৃতি গুলো এখন হাসির খোরাক ছাড়া আর কি ? শুধু ধুলো …………
তবে এখনো যখন বারান্দায় দাড়িয়ে বাতাসের সাথে মিশে যেতে চাই কি একটা যেন ছুয়ে যায় রবি ঠাকুর……….কি বলতো ? কে জানে…..বোধহয়   তোমার সেই “অতিথি” …..”তারাপদ”……….এখনো ইচ্চ্ছে করে ওর সাথে হারিয়ে যেতে…….অসীমের উদ্দেশ্যে অজানার খোজে…….বোধহয় ও হাথছানি দেয়………কিন্তু আমি এখন আর উড়তে পারি না যে ঠাকুর………বিহন্গতার ডানা গুলো কেটে দিয়েছে………পায়ে শেকল পরেছে …..সে হযেছে " খাঁচার পাখি ”……..কিন্তু তার তো উত্স “জীবনস্মৃতি”……..তাই তার প্রেমিক তো হবেই সেই তোমার ছেলেবেলার “বনের পাখি ”……….তুমি ঠিক বলেছ “সীমা আর অসীমের মিলন অপারগের মনের সপ্ন ”…….
তোমাকে বলিনি রবি ঠাকুর এখনো আমি রাত জাগি, ঘুম খুঁজি , গান খুঁজি……….বালিশের কোলে মাথা রাখি না……..গুমরে কেঁদে উঠি, আর কাজল  ভাষা অশ্রুর সাথে জলকেলি করতে করতেই আমি হাত বাড়াই………আমি ধরতে চাই…….এক মুঠো স্বপ্ন……..আর সেই “বনের পাখিটিকে” যে ধরা দেয় না প্রেমের খোলশে, চিঠির শব্দে কিংবা উথলে পরা আবেগের জোয়ারে ভেসে আসে না আমার কাছে………
তোমাকে এখনো বুঝতে পারিনা রবি ঠাকুর………তোমার অনেক কথার সুর খুঁজে পাইনা ……..কিন্তু যেগুলো ধরা দেয় আমার মনের চার দেয়ালে…….সেগুলো আঁকড়ে ধরে থাকি …….কারণ সেগুলোই তো হলো আমার “বেঁচে থাকার গান”…….আকাশপানের মধুর চিত্রলিপি এখনো ধরা দেয় মনের খেয়ালপটে…….আর “সাদা মেঘের ভেলার” আড়ালে  এখনো দেখা দাও তুমি…….আমার রবি ঠাকুর ……….আমার প্রানের পথিক……অনেক দিন পর গল্প হলো…….লেখা হলো….আর সবই হলো তোমার আমার একান্তে…….
ইতি তোমার,
খাচার পাখি


No comments:

Post a Comment

I'd love to hear what you think? :)